।।শেরগুচ্ছের পরের কয়েকটি লেখা।।
সুখদুঃখের কবিতা
❑
তাদের জরাজীর্ণ ঘর। আর ছায়ার কাছেও দেনা।
তবু তাদের বাসায় ফেরার পথে ফোটে হাসনাহেনা।
তাদের বারান্দাতে পাখি। কিন্তু সব দোকানে বাকি।
তারা অন্ধকারে পথ হেঁটে রোজ সূর্যকে দেয় ফাঁকি।
তাদের আকাশে নেই মেঘ। তবু ঝড় বৃষ্টি আসে।
তারা দুঃখগুলো উড়িয়ে দিলো হাতপাখার বাতাসে।
তাদের জরাজীর্ণ ঘরে, হঠাৎ ভেঙে পড়লো চালও।
তখন মাথার উপর চাঁদের আলো—পূর্ণিমা ছড়ালো।
দোজখ
❑
কবর থেকে লাশ তুলে এনে আগুনে পোড়ানোর
খবর দেখে—আমার ঘোর নাস্তিক বন্ধুটিও আজ
আস্তিক হয়ে গেছে। সে বলছে, ধর্মগ্রন্থে মানুষের
মৃত্যুর পর যে দোজখের উল্লেখ আছে, তা সত্য।
তার সন্দেহ, পরকালের সবচেয়ে বড় দোজখটার
নাম, 'বাংলাদেশ'। আমি তাকে বললাম, কী যা তা
বলছ? এই দেশ পরকাল হলে আমাদের ইহকাল
কোথায় কেটেছে? সে বললো, আমাদের কোনো
ইহকাল ছিল না, আমাদের পরকাল থেকেই শুরু।
পতনের সূত্র
❑
বন্দুক দিয়ে মানুষকে ভয় দেখানোর বিপদ হচ্ছে,
বন্দুকের প্রতি মানুষের ভয় একসময় ভেঙে যায়।
তখন গুলি না করে আর কোনো উপায় থাকে না।
আপনি গুলি করবেন, আর তৎক্ষণাৎ গুলির প্রতি
মানুষের ভয় ভেঙে যাবে। মানুষ না মেরে ওই সময়
আপনার আর কীইবা করার থাকবে! আপনি মানুষ
মারবেন। আর দেখবেন, প্রথম মানুষটি মরার সাথে
সাথে মানুষের মরার ভয় ভেঙে গেছে। বন্দুক দিয়ে
মানুষকে ভয় দেখানোর বিপদ হচ্ছে, আপনি মরা
মানুষের সামনে বন্দুক হাতে ভয়ে কাঁপতে থাকবেন।
অসুখের সনেট
❑
আমার গন্তব্য নেই, পথ ছিলে তুমি
অচেনা সে পথে আজও বক্ষ দুরু দুরু
যত দূর চোখ যায় শুধু মৃত্যুভূমি
আমার কবিতা তবু সেখানেই শুরু।
পথের দু'ধারে ছিলো গল্প রাশিরাশি
যে গল্প গাছের কাছে শুনে ফেলে পাখি
যে গল্প মেঘের কাছে বলে আসে পাখি,
আমি তার ফেলে রাখা ছায়া খেয়ে বাঁচি।
বাঁচি, কিন্তু স্বপ্ন ভাঙে অন্য কারো ঘুমে
মায়াদগ্ধ চোখে যার সবই আরোপিত,
নিজেকেই বদলে ফেলি অযাচিত খুনে
যদ্যপি পৃথিবী আজও মিথ্যাকবলিত।
তাকে আর কতটুকু জয়ী বলা যায়?
যে নিজেকে জয় করে তোমাকে হারায়।